আত্মহত্যার চেষ্টা করাও অপরাধ

জীবনটা নিজের হলেও আত্মহত্যার মাধ্যমে এ জীবন নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। যখন কোনো ব্যক্তি তার বিবেক, বুদ্ধিমত্তা হারিয়ে ফেলে তখন সে নিজেকে হত্যা করে। ‘আত্মহত্যা’ কার্যক্রমটি এক ধরনের অপরাধ। এ ধরনের অপরাধকে আমরা ‘ভিকটিমলেস ক্রাইম’ বলে চিহ্নিত করি, যেখানে আত্মহত্যাকারী নিজেই অপরাধী ও ভিকটিম।

প্রেমে ব্যর্থতা, হতাশা, পারিবারিক মনোমালিন্য, অভাব, তীব্র ব্যথার তাড়না, পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না করা, অভিমান ইত্যাদি কারণে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়।

যে আত্মহত্যা করে সে পৃথিবীর সকল নিয়ম কানুনের ঊর্ধে চলে যান। তাই তাকে শাস্তি দেয়া সম্ভব হয় না। তাই আত্মহত্যা নয়, বরং আত্মহত্যায় সহায়তা, প্ররোচনা ও আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকেই আইনে নিষিদ্ধ করে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। কারণ আত্মহত্যাকারীর বাস্তব সত্ত্বা না থাকলেও তাকে সহায়তা, প্ররোচনাকারীর অস্তিত্ব রয়েছে।

তাই তাকে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব। এমতাবস্থায়, কোন হতভাগ্য ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করতে গিয়ে কোন কারণে যদি ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনাকারীকে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা অনুযায়ী ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া আত্মহত্যার চেষ্টাকারীর শাস্তি দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় এক বছর কারাদণ্ড।

সংবাদমাধ্যমেরও আত্মহত্যার খবর প্রকাশে দায়িত্বশীল থাকা দরকার। এমনভাবে সংবাদ উপস্থাপন করতে হবে, সেটা যেন অন্যকে আত্মহননে উৎসাহিত না করে।

আত্মহত্যার প্রবণতা ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি বিপর্যস্ত ব্যক্তিকে মানসিক সহায়তা ও চিকিৎসা দরকার।

Show More
Back to top button
Close