আলো ছড়াচ্ছে আশিকের “মুন্ডা প্রভাতী স্কুল”

আধুনিকতার আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারেনি তারা আজও। সেই আদিবাসী মুন্ডাদের জন্য আলোকবর্তিতা হয়ে এগিয়ে এলেন এক তরুণ । নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ছোট্ট স্কুল।
নাম দিয়েছেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে মুন্ডা সম্প্রদায়ের স্বপ্ন পুরুষ বিরসা মুন্ডার নামে বিরসা মুন্ডা প্রভাতী স্কুল।

খুলনা জেলার দক্ষিনের কয়রা উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে সুন্দরবনসংলগ্ন ৬ নং কয়রা ইউনিয়নের মুন্ডাপাড়ায় এ ব্যতিক্রমধর্মী স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়েছে । ওই গ্রামে বসবাসরত ৫ শতাধিক আদিবাসী (মুন্ডা) সম্প্রদায়ের ২ শতাধিক ছেলেমেয়েকে দেশের প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এ স্কুলটির মাধ্যমে ।

সুন্দরবনে মাছ,মধু ও কাঠ সংগ্রহ করতে যেয়ে যে সকল জেলে বাওয়ালী ও মৌয়াল বাঘের আক্রোমণে নিহত হয়েছেন তাদের বিধবা স্ত্রী এবং সন্তানদের ভাগ্যন্নয়নে সহ বিভিন্ন সামাজিক এবং মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করা এই তরুণ।

আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি উষা রাণী মুন্ডা বলেন, আমাদের এই সাংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে কোনরকম চর্চার কেন্দ্র নেই । শিশুদের জন্য নেই আলাদা স্কুল বা পাঠ্য বইয়ের ব্যবস্থা । আশিকের এমন উদ্যোগ নেয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের পূর্বের সংস্কৃতি-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছে। সরকারি ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ সকল পিছিয়ে পড়া আদিবাসী ছেলেমেয়েরা ভালো কিছু করবে।

আশিকের প্রতিষ্ঠিত স্কুলে পড়াশুনা করছে ২ শতাধিক ছেলেমেয়ে

বিরসা মুন্ডা প্রভাতী স্কুলের শিক্ষিকা বাসন্তী মুন্ডা বলেন, ভাষা-সাংস্কৃতি ভিন্ন হওয়ার কারণে স্কুলের প্রচলিত পাঠদান সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় আয়ত্তে আনতে পারে না আমাদের শিশুরা। ফলে মাঝ পথে ঝরে পড়ে তারা। প্রাথমিকের গণ্ডি পার হওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না । এসব চিন্তা করেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সেখানে উপস্থিত অজয় মুন্ডা(৮) সুব্রত মুন্ডা (১০) সুস্মিতা মুন্ডা(৯) তাদের ভাষায় জানায়, তারা অনেক খুশি তাদের সংস্কৃতি জানতে পারায়। তারা সবাই লেখাপড়া শিখে গ্রামের অন্য ছেলেমেয়েদের মতো হতে চায়।

বিরসা মুন্ডা প্রভাতী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আশিকুজ্জামান আশিক অপরাধ.কম কে বলেন,
তাদের নিরক্ষর পিতামাতা ভোরবেলা কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় তারা রান্নাবান্না করে সন্ধ্যা রাতেই ঘুমিয়ে পড়ে। যার ফলে তারা সন্ধ্যায় বাচ্চাদেরকে পাশে নিয়ে বই পড়ানোর বা তাদের স্কুলের পাঠ প্রস্তুত করিয়ে দিতে পারেনা। আবার অর্থাভাবে তারা কোচিং বা প্রাইভেট পড়তে পারেনা।

এ সম্প্রদায়ের অধিকাংশ বাবা মা নিরক্ষর হওয়ায় তাদের শিশুদের অক্ষর জ্ঞান ও পড়ালেখায় হাতেখড়ি দেয়ার গুরুত্ব তারা অনুধাবন করতে পারেনা বলে সঠিক গাইড লাইনের অভাবে তারা সবার সাথে খাপ খাইয়ে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারেনা। আমাদের স্কুলে একজন স্কুল পড়ুয়া মুন্ডা নারীর তত্ত্বাবধানে তারা অতি যত্নে পড়ালেখা শিখছে। দেশের ইতিহাস জানার পাশাপাশি তারা মুন্ডাদের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

এ সব বিবেচনা করে আমি তাদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি। তবে তাদের ভাষার কোন বই নেই। তাদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ইন্টারনেট বা উইকিপিডিয়া থেকে তথ্য নিয়ে। তাদের পাঠ প্রস্তুত করিয়ে দেবার পাশাপাশি মুন্ডা সম্প্রদায়ের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে তারা জানতে পারবে।

Show More
Back to top button
Close