ওসি মোয়াজ্জেমের অপরাধ কতটুকু?

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি।

ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮-এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় একটি মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি অধ্যক্ষের হাতে কীভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন, এর বিবরণ ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ম ভেঙে তার মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। তার বক্তব্য নেওয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

যেহেতু ওসি মোয়াজ্জেম নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমতি ব্যতিরেকে ভিডিও ধারণ করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করেন এবং অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করেন, তাই তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। আজ ৩টার দিকে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

উল্লেখ্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় ওসি মোয়াজ্জেম যে মামলাতে গ্রেফতার হয়েছেন তার সাজা ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ড।

Show More
Back to top button
Close