ধর্ষণের নিউজ পাই, শাস্তির নিউজ পাই না কেন?

প্রতিদিন সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে ধর্ষণের ঘটনা। শিশু কিংবা বৃদ্ধা কেউই রেহাই পাচ্ছে না।

হুজুর কিংবা পুরোহিত, শিক্ষক কিংবা চাচা কারো কাছেই কন্যা সন্তান নিরাপদ নয়! তাই তো ধর্ষণের পরিসংখ্যানটাও বেশ বড়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩১৬ টি।এর মধ্যে গণধর্ষণ ৬৬টি এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ১৪ জনকে। এছাড়া ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা সামনে আসে ৬১ টি। বছর শেষ হলে এই পরিসংখ্যান যে বেশ বড় হবে তা সহহেই অনুমান করা যায়।

আইনে বলা আছে, যদি একজন নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে, ভয় দেখিয়ে কিংবা ১৬ বছরের কম বয়সী নারীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলেই ধর্ষণ বলে গণ্য হবে। ধর্ষণের সাজাও নেহাত কম নয়। দরকার শুধু অপরাধীকে দ্রুততম সময়ে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা এবং সাজা প্রদান করা।

প্রতিদিন যতগুলো ধর্ষণের খবর পত্রিকার পাতায় আসে, ঠিক ততগুলো শাস্তির খবর প্রত্রিকার পাতায় এলে ধর্ষণের ঘটনা শূণ্যের কোটায় নেমে যেত।

নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ড। ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হলে ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। ধর্ষণের চেষ্টা করলেও ৫ থেকে ১০ বছরের জেল ও অর্থদন্ড দেওয়ার বিধান আইনে আছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্ষণ করার জন্য এই সব শাস্তি কি কাউকে দেওয়া হয়েছে? পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ৫ বছরে ধর্ষণের মামলা হয়েছে ১৮,৬৬৮ টি। এসকল মামলায় মাত্র ৪% আসামির শাস্থি হয়েছে। বাকিদের অধিকাংশই অব্যাহতি পেয়েছে ধর্ষণ মামলা থেকে। মুলত দৃষ্টান্তমুলক সাজা না হওয়ার কারণে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে।

প্রদীপ বিশ্বাস,
উপদেষ্টা, অপরাধ.কম

Show More
Back to top button
Close