পাটক্ষেতে নিয়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণ!

শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার ডিএমখালী ইউনিয়নে ৭ সন্তানের জনক গিয়াসউদ্দিন ঢালী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে নিজের পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত শ্বশুর গিয়াস উদ্দিন ঢালীকে সোমবার সকালে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার রাতে ধর্ষণের শিকার পুত্রবধূ বাদি হয়ে সখিপুর থানায় মামলা করেন। ৬ মাস ধরে তিনি তার পুত্রবধূ বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ করে আসছিল। গিয়াসউদ্দিন ঢালী (৬৫) ডিএমখালী ইউনিয়নের বেলায়েত হোসেন সরদার কান্দির বাসিন্দা।

সখিপুর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে ডিএমখালী ইউনিয়নের বেলায়েত হোসেন সরদার কান্দির বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিন ঢালীর ছেলে লিটন ঢালীর সাথে একই ইউনিয়নের মোল্যা কান্দির বাসিন্দা ইব্রাহীম মোল্যার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই লিটন ঢালী তার স্ত্রী নিজের গ্রামের বাড়িতে রেখে রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে চাকরি করে আসছে। ফলে গ্রামের বাড়িতে তার যাতায়াত কম ছিল। এ সুযোগে লিটনের বাবা গিয়াসউদ্দিন ঢালী নিজের পুত্রবধূকে মেরে ফেলাসহ নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ শুরু করে। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখে ফেলে এবং ঘটনাটি জানাজানি হয়।

পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য গত বুধবার স্থানীয় সালিশরা বিচারের নামে গিয়াসউদ্দিন ঢালীকে জনসাধারণের সামনে জুতাপেটা করে। আর হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে ইয়াসমিনকে তার পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু এ বিচারে সন্তুষ্ট নয় ইয়াসমিনের পরিবার।

ধর্ষণের শিকার পুত্রবধূ বলেন, ২০১৭ সালে গিয়াস উদ্দিন ঢালীর ছেলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কাজের উদ্দেশ্যে আমার স্বামী ঢাকা চলে যান। কাজের জন্য ঢাকায় থাকেন স্বামী। বাড়িতে একই ঘরে থাকি আমরা সবাই। গত ২৮ মে রাতে শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর এক খাটে শুয়েছিল। খাটের পাশে মাটিতে বিছানা করে ঘুমিয়ে ছিলাম আমি। ওই দিন ঘুমানো অবস্থায় গভীর রাতে আমার মুখ চেপে ধরে কেউ একজন, চোখ মেলে দেখি শ্বশুর গিয়াস উদ্দিন ঢালী আমার বুকের ওপর। চিৎকার করতে চাইলে মুখ চেপে ধরে গিয়াস উদ্দিন। সেই সঙ্গে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। এরপর ২৮ মে রাত থেকে শুরু করে ৬ জুলাই পর্যন্ত প্রায় রাতে আমাকে ধর্ষণ করেছে শ্বশুর গিয়াস উদ্দিন। খুন হওয়ার ভয়ে ও চোখ লজ্জায় কাউকে বিষয়টি জানাতে পারিনি আমি। অবশেষে উপায় না পেয়ে রবিবার রাতে থানায় মামলা করেছি আমি।

ধর্ষিতার মা বলেন, আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের সাথে তার শ্বশুর এ কাজ কেমনে করলো! আমি তার যথাযথ বিচার চাই। ওই বিচার (শালিস) আমি মানি না। আমার স্বামীও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কোন রকম কৃষি কাজ করে। আর আমি ডেকোরেটরের থালা বাসন পরিস্কার করে দিন কাটাই।

তবে ধর্ষক গিয়াসউদ্দিন ঢালী বলেন, আমি এক কাজ করিনি। আমার ছেলের স্ত্রী মিথ্যা কথা বলছে। তবে সবার সিদ্ধান্তের কারণে আমি ওই বিচার মেনে নিয়েছি।

বিষয়টি র সত্যতা নিশ্চিত করে সখিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, পুত্রবধূ মামলা দায়েরের পর শ্বশুর গিয়াস উদ্দিন ঢালীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে। ধর্ষক গিয়াস উদ্দিন ঢালীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

Show More
Back to top button
Close