ভিডিও করে পুলিশ, ফেসবুকে ছাড়ে সাংবাদিক

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির যৌনহয়রানি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের সময় আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

ওসি মোয়াজ্জেমের (আসামি পক্ষে) আইনজীবী ফারুক আহমেদকে বিচারক জিজ্ঞাসা করেন , মোয়াজ্জেম হোসেন ভিডিওটি করেছিলেন কি না? এ প্রশ্নের বিষয়ে আইনজীবী সরাসরি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া সংক্রান্তে বিশেষাজ্ঞ মতামত এবং দালিলিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রতিয়মান হয়েছে যে, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গত ২৭ মার্চ বেলা ১টা ১৮ ঘটিকার সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল দ্বারা নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে, যাতে ভিকটিমের ব্যক্তিগত তথ্য পরিচিতি প্রকাশ পায়। এ অপরাধে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারার অপরাধ প্রমানিত হয়। এছাড়া ধারণকৃত ভিডিও গত ৮ এপ্রিল শেয়ারইট এ্যাপ্সের মাধ্যমে সজল নামক ডিভাইসে প্রেরণ করে প্রচার করায় একই আইনের ২৯ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়।

অন্যদিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা ডিজিটাল বিন্যাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির উপক্রম করায় একই আইনের ৩১ ধারায় অপরাধ করেছেন।

মামলায় যেসব ধারায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন আমলে গ্রহণ করা হয়েছে ওই সকল ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদী সুমান। তিনি বলেন, ‘তিনটি ধারার প্রত্যেকটিতে পাঁচ বছর করে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মোয়াজ্জেমের পক্ষে শুনানিতে তার আইনজীবীরা দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির কোনো আইডি থেকে ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভিডিওটি ছড়ানো হয়নি। সজল নামের এক সাংবাদিকের আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। অথচ তার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।

Show More
Back to top button
Close